tportable-x64.5.4.0শেখ হাসিনা সরকারের পতনের একমাস পূর্তি উপলক্ষে ঝিনাইদহে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন এক বর্ণাঢ্য শহীদি মার্চ কর্মসূচী পালন করেছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের উজির আলী স্কুল মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালী বের করা হয়
। র্যালীটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখানে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আন্দোলনের নেতারা বক্তব্য রাখেন এবং আন্দোলনের মূল চেতনা ও লক্ষ্য তুলে ধরেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিতে নিহত শিক্ষার্থী সাদ আল আফনান পাটওয়ারীর মরদেহ উত্তোলন
র্যালী ও সমাবেশের কার্যক্রম
র্যালীটি শুরু হওয়ার পর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের স্লোগান ধ্বনিত হয়। সমবেত শিক্ষার্থীরা হাতে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার বহন করেন, যাতে বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং দেশের রাষ্ট্রীয় সংস্কার দাবি তুলে ধরা হয়। র্যালীর মূল লক্ষ্য ছিল আন্দোলনের সমর্থন বৃদ্ধি করা এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলা। আন্দোলনের নেতারা বৈষম্য ও অন্যায় ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।
সমাবেশে বক্তৃতা
সমাবেশে প্রধান বক্তৃতা দেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার শারমিন আক্তার ও আবু হুরায়রা। তাদের বক্তৃতায় রাষ্ট্রীয় বৈষম্য, সামাজিক অসমতা এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু বিচার ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়। তারা সরকারের পতনের পরবর্তী পরিবর্তন নিয়ে কথা বলেন এবং দেশে স্থায়ী শান্তি ও সমতা প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কারের দাবি তোলেন।
তারা আরও বলেন, আন্দোলনের যে নেতাকর্মীরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। বক্তারা সরকারকে হুশিয়ারি দেন যে, যারা রাষ্ট্র সংস্কারে বাধা দেবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাজাপ্রাপ্ত ৫৭ জন বাংলাদেশি সম্প্রতি ক্ষমা পেয়েছেন
শহীদদের স্মরণ
বক্তব্য শেষে সমাবেশে উপস্থিত সকলে এক মিনিট নীরবতা পালন করে আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করেন। এরপর নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই আন্দোলন দেশের সামগ্রিক সংস্কারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং বৈষম্যের অবসান ঘটাবে।
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং এ কে এম শহীদুল হককে গ্রেপ্তার
সমাবেশের প্রভাব
এই শহীদি মার্চ কর্মসূচী স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তারা আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন। বক্তারা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন কেবল ছাত্রদের নয়, সমগ্র জাতির সংগ্রাম।
সমাবেশে আন্দোলনের নেতারা জাতীয় ও স্থানীয় রাজনীতিতে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, দেশে যে বৈষম্য ও অন্যায় চলছে, তা দূর করতে হলে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
ভ্যানে লাশের স্তূপ করছে পুলিশ, ভাইরাল ভিডিও নিয়ে যা জানা গেল ভ্যানে লাশের স্তূপের ভিডিওটি আশুলিয়ার
সমাবেশে উত্থাপিত কিছু দাবী
১. বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নিহতদের সুষ্ঠু বিচার।
২. দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে সংস্কার।
৩. সকল বৈষম্যের অবসান ঘটানো।
৪. জনগণের ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা।
এই কর্মসূচী বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসাবে চিহ্নিত হচ্ছে। পরে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়।